গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। পাগলাটে কোনো রান আউটও হয়নি কোনো। বরং দারুণ ব্যাটিং এবং দুর্দান্ত সব ক্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ জিতে নিল প্রোটিয়ারা। খুব সম্ভবত এই প্রথম বড় মঞ্চে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে চোক করল না আফ্রিকানরা। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংল্যান্ডকে ঠিকই হারিয়েছে তারা।

england win against south africa t 20 match

শনিবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাটুকে ম্যাচে ইংলিশদের ১০ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু জিতেও বিদায় নিতে হলো প্রোটিয়াদের। অস্ট্রেলিয়ার সমান চার জয় থাকা সত্ত্বেও রান রেটে পিছিয়ে থাকায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট পেল না তারা। আসরে তাদের সান্ত্বনা চারটি জয়!

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রসি ফন ডার ডুসেন ও এইডেন মার্করাম দৃঢ়তায় দুই উইকেটে ১৮৯ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে দারুণ শুরুর পরও আট উইকেটে ১৭৯ রান তুলতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। চলমান আসরে এটাই প্রথম হার ইংলিশদের।

অবশ্য এই ম্যাচ হেরেও কোনো সমস্যা হয়নি ইংল্যান্ডের (রান রেট +২.৪৬৪)। গ্রুপ-১ এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে উঠল তারা। সেমিফাইনালে উঠতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৭ রান দরকার ছিল তাদের। আর টিকে থাকতে ইংলিশদের ১৩২ রানে আটকাতে হতো প্রোটিয়াদের। খুব স্বাভাবিকভাবেই তা পারেনি আফ্রিকানরা (+০.৭৩৯)।

তিনটি দলেরই জয় সমান চারটি করে। রান রেটের হিসেবে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া (+১.২১৬)।এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটার ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে শেষ ওভারে। যেখানে প্রথম তিন বলেই হ্যাটট্রিক করেন কাগিসো রাবাদা। অথচ আগের তিন ওভারে কোনো উইকেট তো পানইনি। বরং রান দিয়েছেন ৪৫!

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৪ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। দক্ষিণ আফ্রিকার অনভিজ্ঞ অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা বড় ধরনের ঝুঁকি নিলেন। বেধরক মার খাওয়া সেই রাবাদাকেই আনলেন। অধিনায়কের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন প্রোটিয়া পেসার। শুরুর তিন বলে একে একে ফেরালেন ক্রিস ওকস, মঈন আলি ও ক্রিস জর্ডানকে।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এটা দক্ষিণ আফ্রিকান প্রতিনিধিদের পঞ্চম হ্যাটট্রিক। তবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এটাই প্রোটিয়া কোনো বোলারের প্রথম হ্যাটট্রিক। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে জর্ডানের ক্যাচ নেন ডেভিড মিলার। তখনই অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন রাবিদা। অবিশ্বাস্য লাগছিল তার কাছে।

চলমান বিশ্বকাপে এটা তৃতীয় হ্যাটট্রিক। বিস্ময়কর হচ্ছে, আগের ছয় আসরে হ্যাটট্রিক হয়েছে মোটে একটি! তাও আবার ২০০৭ সালে প্রথম আসরে। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যের এই টুর্নামেন্ট যেন হ্যাটট্রিকের পসরা সাজিয়ে বসেছে। রাবাদার আগে এই আসরে তিন বলে তিন উইকেট নিয়েছেন কার্টিস ক্যাম্ফার ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

অথচ ম্যাচের শেষটা অন্যরকম হতে পারতো। হয়তো জিততে পারতো ইংল্যান্ড। এ জন্য দুর্ভাগ্যকে দুষতে পারে তারা। রান পাহাড়ের জবাব দিতে নেমে বিস্ফোরক সূচনা করেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জেসন রয় ও জস বাটলার। চার ওভারে ৩৭ রান করে ফেলেন তারা। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পরেন জেসন।

চিকিৎসকদের কাঁধে হাত রেখে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ওপেনার। রান তাড়ায় যা এলো বড় ধাক্কা হয়ে। তবে জেসন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরলেও রানের গতি কমেনি ইংল্যান্ডের। বাটলার ও নতুন ব্যাটার ইয়ন মরগান ঝড় চলতেই থাকে। কিন্তু আস্কিং রেটের চাপ কাল হয়ে দাঁড়াল।

ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৫৮ রানে ফেরেন বাটলার। ১৫ বলে ২৬ রান করেন তিনি। সমান বলে তার সঙ্গী জেসন কুড়ি রান করেছিলেন। বাটলারের বিদায়ের পরের ওভারে আউট নতুন ব্যাটার জনি বেয়ারস্টো। তবে টপ অর্ডারে আচমকা ধস নামলেও মঈন ও ডেউইড মালান আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে ওঠেন।

দলীয় শতক পার হওয়ার পর আউট হন মঈন। ২৭ বলে ৩৭ রান করেন 'বাংলাদেশের জামাই'। লিয়াম লিভিংস্টোন শুরুটা ধীরগতির করলেও পরপর তিন বলে তিন ছক্কা মরেন রাবাদাকে। ম্যাচের রোমাঞ্চ তখন তুঙ্গে। এর আগেই শুরু হয় ডেউইড মালান ঝড়। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সমীকরণ নেমে আসে তিন ওভারে ৩৫।

কঠিন সমীকরণটা শেষ পর্যন্ত রাবাদার কারণে মেলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। তার দারুণ ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৩৬ বলে ৩৩ রান করা মালান। ১৭ বলে ২৮ রান করা লিভিংস্টোনের দুর্দান্ত ক্যাচ নেন ডেভিড মিলার। ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান ১২ বলে ১৭ রান করে কেশব মহারাজের দারুণ ক্যাচ হয়ে ফেরেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আট বলে দুই রানে বিদায় নেন ওপেনার রিজা হেন্ড্রিক্স। শুরুর ধাক্কা সামলে নেয় কুইন্টন ডি কক ও ফন ডার ডুসেনের ৭১ রানের জুটি। জুটি ভাঙে ডি কক ২৭ বলে ২৪ রানে বিদায় নিলে। এরপর তাণ্ডব শুরু দক্ষিণ আফ্রিকান দুই ব্যাটারের।

৬০ বলে ৯৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ডার ডুসেন। বিশ্বকাপে এটাই কোনো দক্ষিণ আফ্রিকানের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাঁচ চার ও ছয় ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। এই ইনিংস তার হাতে তুলে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। কম যাননি মার্করামও। ২৫ বলে দুই চার ও চার ছক্কায় ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এই দুজনের তাণ্ডবে শেষ পাঁচ ওভারে ৭১ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যবধান গড়ে দিয়েছে মার্করাম-ডার ডুসেনের ১০৩ রানের বিধ্বংসী জুটিটাই। কিন্তু জুটির কার্যকারিতা হারিয়ে গেছে রান রেটের মারপ্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায় নিলে। ফলে আরো একটা বৈশ্বিক আসর থেকে 'শূন্য' হাতে ফিরতে হলো প্রোটিয়াদের।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.